দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর বাংলাদেশের গম আমদানির উৎসে বড় পরিবর্তন এসেছে। সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রথমবারের মতো রাশিয়া ও ইউক্রেনকে ছাড়িয়ে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় গম সরবরাহকারী দেশ হয়েছে আর্জেন্টিনা।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ রেকর্ড ৭৪ লাখ ৩৪ হাজার টন গম আমদানি করেছে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। আগের অর্থবছরের তুলনায় আমদানি বেড়েছে ২৫ শতাংশ। এর প্রায় ৩০ শতাংশই এসেছে আর্জেন্টিনা থেকে।
দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়া ও ইউক্রেন বাংলাদেশের প্রধান গম সরবরাহকারী ছিল। তবে ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর সরবরাহ অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় আমদানিকারকেরা বিকল্প বাজার খুঁজতে শুরু করেন। সেই সুযোগে কয়েক বছরের মধ্যেই শীর্ষে উঠে আসে আর্জেন্টিনা।
এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে বাংলাদেশ আর্জেন্টিনা থেকে ২২ লাখ টন গম আমদানি করেছে, যার মূল্য প্রায় ৫৬ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার। অন্যদিকে রাশিয়া থেকে আমদানি কমে দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখ ৭৯ হাজার টনে, যা মোট আমদানির ২৩ শতাংশ। আগের অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট গম আমদানির ৪৪ শতাংশই এসেছিল রাশিয়া থেকে।
এতদিন আর্জেন্টিনা মূলত সয়াবিন তেলের অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী ছিল। এখন গমও দেশটির গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি পণ্যে পরিণত হয়েছে। আগে হাতে গোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আর্জেন্টিনা থেকে গম আমদানি করলেও গত অর্থবছরে ৪৬টি প্রতিষ্ঠান দেশটি থেকে গম কিনেছে।
আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ডেল্টা অ্যাগ্রোফুড ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিরুল হক বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর ওই দুই দেশ থেকে গম আমদানিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় সরবরাহ ঝুঁকি কমাতে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলকে বিকল্প উৎস হিসেবে বেছে নেওয়া হয়।
বাংলাদেশ মূলত রাশিয়া, ইউক্রেন, আর্জেন্টিনা, রোমানিয়া, বুলগেরিয়া ও ব্রাজিল থেকে নরম গম আমদানি করে। যদিও ব্রাজিলের অংশগ্রহণও বেড়েছে, তবে তা আর্জেন্টিনার তুলনায় ধীরগতিতে।
গত অর্থবছরে বাংলাদেশ ব্রাজিল থেকে ৪ লাখ ৭৬ হাজার টন গম আমদানি করেছে, যা মোট আমদানির ৬ দশমিক ৪১ শতাংশ। আগের অর্থবছরে এ হার ছিল মাত্র ২ শতাংশ। বর্তমানে দেশটি বাংলাদেশের পঞ্চম বৃহত্তম গম সরবরাহকারী।
এনবিআরের তথ্য বলছে, গত অর্থবছরে সবচেয়ে কম দামে গম সরবরাহ করেছে ব্রাজিল। দেশটি থেকে প্রতি টন গম আমদানিতে ব্যয় হয়েছে গড়ে ২৫৫ মার্কিন ডলার, যেখানে আর্জেন্টিনা থেকে প্রতি টনের দাম ছিল ২৫৭ ডলার। তবে তুলনামূলক কম দাম হলেও ব্রাজিল এখনও বাংলাদেশের প্রধান গম সরবরাহকারীদের কাতারে জায়গা করে নিতে পারেনি।
উচ্চ প্রোটিনসমৃদ্ধ শক্ত গমের প্রধান উৎস কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে কানাডাই এখনও বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় হার্ড হুইট সরবরাহকারী।
গত অর্থবছরে কানাডা থেকে ১৬ লাখ ৭০ হাজার টন গম আমদানি করেছে বাংলাদেশ, যা মোট আমদানির প্রায় ২২ দশমিক ৫ শতাংশ। ফলে দেশটি দ্বিতীয় বৃহত্তম গম সরবরাহকারী হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে।
কয়েক বছর বিরতির পর বাংলাদেশের গমের বাজারে ফিরেছে যুক্তরাষ্ট্রও। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশটি থেকে কোনো গম আমদানি হয়নি। তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৭ লাখ ৪৪ হাজার টন গম আমদানি করা হয়েছে, যা মোট আমদানির প্রায় ১০ শতাংশ। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র এখন বাংলাদেশের চতুর্থ বৃহত্তম গম সরবরাহকারী।
আমদানিকারকদের মতে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বাংলাদেশের গম আমদানির উৎসকে আগের তুলনায় অনেক বেশি বৈচিত্র্যময় করেছে। ফলে সরবরাহ ঝুঁকি কিছুটা কমলেও বৈশ্বিক গমের দাম ও ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনও বাংলাদেশের গম আমদানিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে।
এমএস/